বিশ্ববিখ্যাত হ্যাকারঃ শেষ পর্ব

গত পর্বে আমরা ৩ জন বিশ্বখ্যাত হ্যাকার এবং তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জেনেছি। আজ আমরা বিশ্বখ্যাত হ্যাকার ব্লগের দ্বিতীয় তথা শেষ পর্ব পড়বো। চলুন জেনে নেওয়া যাক তাদের ব্যাপারে।

ডেভিড স্মিথ

বিশ্বখ্যাত ভাইরাস ম্যালিসা সম্পর্কে জানেন না এমন মানুষের সংখ্যা নেহাতই কম। এই ভাইরাস সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলো। এই ভাইরাসের সৃষ্টিকর্তাই হচ্ছেন ডেভিড স্মিথ।

তার এই ভাইরাসটি ইমেইল গেটওয়ে ব্যবহার করে কম্পিউটারে প্রবেশ করতো এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করতো। বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানি যেমন মাইক্রোসফট, ইন্টেল কর্পোরেশন ইত্যাদি এই ভাইরাসটিকে আটকানোর অনেক চেষ্টা করেন। যদিও সেই সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়।

এই প্রোগ্রামারের প্রোগ্রাম করা ম্যালিসা ভাইরাস শুধু মাত্র উত্তর আমেরিকায় ৮০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি সাধন করে, যা বিশাল ব্যবসায়িক ধ্বস এর জন্ম দেয়।

মাইকেল কেলস

এই ব্যক্তি এমন একজন মানুষ ছিলেন যার শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিলনা তেমন। কিন্ত নিজের চেষ্টা ও বুদ্ধি দিয়ে তিনি সফল হন। তাকে বলা হয় সাইবার জগতের ‘মাফিয়া বয়’। সে হাইস্কুল পাশ করার পরপরই ইবে, আমাজন, ইয়াহু, ডেল এবং সিএনএনের সিস্টেম হ্যাক করে।

২০০০ সালে তিনি Denial of service আবিষ্কার করে বিভিন্ন কমার্শিয়াল সাইট হ্যাক করেন।এছাড়াও তিনি তখনকার সময়ের জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন ইয়াহু  ডাউন করে দেন এক ঘন্টার জন্য।

পরে তিনি টি এন টি নামে একটি হ্যাকার টিম তৈরি করেন যাদের কাজ ছিল যে কোন সিস্টেম হ্যাক করে নিজেদের কতৃত্ব প্রকাশ করা।

২০০১ সালে তাকে আটক করা হয় এবং ৮ মাসের জেল দেয়া হয়।আর তার ইন্টারনেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়।

রবার্ট মরিস

মরিস ওয়ার্ম এর জন্মদাতা রবার্ট মরিস।১৯৮৮ সালে তিনি মরিসওয়ার্ম আবিষ্কার করেন যা ছিল সর্বপ্রথম কোন ভাইরাস যা কোন কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করে কম্পিউটার এ থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট করতে পারতো।

তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এটি প্রকাশ করেন।এই ওয়ার্ম টি বিভিন্ন দূর্বল পাসওয়ার্ড ক্র্যাক করতে পারতো।

তারপর ১৯৮৯ সালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন কম্পিউটার ফ্রড এন্ড এবিউজ এক্টে।তিনি ই সর্বপ্রথম এই আইনে অভিযুক্ত হন এবং শাস্তি লাভ করেন।

হ্যাকিং বা হ্যাকার,এরা কিছু মানুষের চোখে খারাপ হলেও আসলে তারা মানবজাতির জন্য অনেক সুফল ও বয়ে আনে।টেকনোলজি সিস্টেম কোন দিন ই এত ডেভেলপড হতো না যদি না এইসব হ্যাকার দের আবির্ভাব ঘটতো অথবা বিভিন্ন সিস্টেম হ্যাক এর স্বীকার হতো।তাই আমরা বলতে পারি হ্যাকার খারাপ হলেও হতে পারে,কিন্ত হ্যাকিং সব সময় ই আমাদের সচেতন করে এবং শিক্ষা দেয়।

আবার ফিরে আসবো নতুন কোন টপিক নিয়ে।ততদিন ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন।

সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। ❤

2 thoughts on “বিশ্ববিখ্যাত হ্যাকারঃ শেষ পর্ব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *