বিশ্বখ্যাত হ্যাকারঃ প্রথম পর্ব

হ্যাকিং।একইসাথে একটি  চমৎকার এবং ভয়ংকর বিষয়। সারা বিশ্বে কয়েক লক্ষ হ্যাকার আছে, যারা শখের বসে অথবা নিজের অস্তিত্ব জাহির করতে বা অন্যের ক্ষতি করতে মুখিয়ে আছে। আমরা কিছুদিন আগেই দেখলাম বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনা, যেটা ছিল একটি সফল হ্যাকিংয়ের উদাহরণ । এছাড়াও সাইবার ক্রাইম ও হ্যাকিং নিয়ে আরো অনেক ঘটনাই আমরা প্রতিনিয়ত শুনতে পাই।

গত পর্বে আমরা দেখেছিলাম হ্যাকিং এর ইতিহাস। আজ আমরা জানবো কিছু জনপ্রিয় হ্যাকার এবং তাদের ধ্বংসলীলা সম্পর্কে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক 😁


গ্যারী ম্যাককিনসঃ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সাইবার ওয়ার্ল্ডে সব থেকে সিকিউরড বলা চলে। কোটি কোটি ডলার তারা খরচ করে শুধুমাত্র সাইবার সিকিউরিটি বাড়ানোর জন্য। অথচ একদিন এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের কম্পিউটারে একটি ম্যাসেজ দেখা যায় হঠাৎ করেই। আর তা হলো, “Your security system is crap, I am Solo. I will continue to disrupt at the highest levels’’। ব্যস! শুরু হলো হুলুস্তুল কান্ড। অনেক রিসার্চ এবং ডাটা এনালাইসিসের পর জানা গেলো, এটি স্কটল্যান্ডের একজন ডেভেলপার, গ্যারী ম্যাককিন্স এর কাজ।

গ্যারী মার্কিন নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী এবং নাসাসহ প্রায় ৯৭ টি কম্পিউটার হ্যাক করে ফেলেন। যার ফলে আর্থিক ক্ষতি হয় ৭ লক্ষ ডলার। তিনি এই কাজ শুধু নিজের ক্ষমতা জাহির করতেই করেছিলেন। গ্যারী মানসিক ভাবে অসুস্থ ছিলেন। কিন্ত তার মেধা সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলো। সে নিজেই একা একা ইউএফও নিয়ে গবেষনা করেছিলেন তাও শুধু শখের বসেই।

জোনাথন জেমসঃ

তার কাজ বিশ্বের সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলো। জোনাথন মাত্র ১৬ বছর বয়সে জেল খাটেন হ্যাকিংয়ের জন্য।জোনাথন খুব কম বয়সেই হ্যাকিং নিয়ে গবেষনা শুরু করে। যার ফলশ্রুতিতে সে মাত্র ১৫ বছর বয়সে নাসার কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক করে এবং শুধু হ্যাক করেই ক্ষান্ত হন নি তিনি। তিনি কিছু সফটওয়্যার চুরি করেন যার মুল্য দাঁড়ায় ১.৭ মিলিয়ন ডলার।

আমেরিকান সরকার তাকে জেলে পাঠায়। জেলে থাকা অবস্থায় তিনি ২০০৮ সালে আত্মহত্যা করেন এই বলে যে, “আমার বিচার ব্যবস্থার উপর বিশ্বাস নেই, আমি সবাইকে এই জানাতে চাই যে, আমি সব কিছুর ধরা ছোয়ার বাইরে এবং এইখান থেকে বের হওয়ার এটাই একমাত্র উপায়।”

জর্জ হটজঃ

জর্জ হটজ সর্বপ্রথম অ্যাপল এর আইওএস সিস্টেম হ্যাক করতে সফল হন। তিনি ২০০৭ সালে আইওএস হ্যাক করে সবাইকে অবাক করে দেন। জর্জ শুধু আইওএস হ্যাকই করেননি বরং তিনিই ডেভেলপ করেন আইওএস অপরেটিং সিস্টেমকে রুট করার সফটওয়্যার, জেলব্রেক টুলস ও বুট্রুম।

জর্জ যে শুধু আইওএস হ্যাক করেছেন তা কিন্ত নয়। তিনি সনির প্লেস্টেশন ৩ হ্যাক করে, প্রায় ৭৭ মিলিয়ন ইউজার ডেটা কালেক্ট করেন। যার জন্য সনির সাথে বেশ কিছুদিন আইনি লড়াইও লড়তে হয় তার।

আন্ড্রিয়ান লামোঃ

‘দ্যা হোমলেস হ্যাকার’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তি মাইক্রোসফট, ইয়াহু ও নিউ ইয়র্ক টাইমের কম্পিউটার সিস্টেমের ভলনারেবিলিটির সূত্র ধরে এসব কম্পিউটার হ্যাক করেন। এরপর নিউ ইয়র্ক টাইমস তার নামে মামলা ঠুকে দেয়ায় তিনি নজরদারীতে থাকেন বেশ কয়েক বছর।

তিনি ২০০৭ সালে আবার খবরে আসেন, ২০১০ সালে হওয়া বাগদাদ এয়ার স্ট্রাইকের ভিডিও ফাঁসকারীকে শনাক্ত করে দেওয়ার মাধ্যমে। তারপর থেকে তিনি অন প্রফিট অর্গানাইজেশনে কাজ শুরু করেন, একজন থ্রেট এনালাইসিস্ট হিসেবে।


আজ এই পর্যন্তই। পরবর্তী ব্লগে থাকছে বাকি অংশ!

সাথেই থাকুন।ধন্যবাদ ❤

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *