অণুগল্পঃ১

সন্ধ্যা প্রায় ৭ টা বেজে গেলো।আজ এখনো কোন মেয়ে পাই নি।

তাহলে?

কি আজকে পার্টি হবেনা? ধ্যাঁত!

কি সব ভাবছি!
আমি সিড।আমার বাবার অনেক টাকা।তাই আমি কোন কাজ করি না।পার্টি করি প্রতিদিন।
না,কোন বন্ধুবান্ধবের সাথে না।মেয়েদের সাথে।একটি মেয়ে।আমার সব চাইতে পছন্দসই পার্টি।একটি মেয়ে,একটি রাত,একটি খুন!
আমি প্রতিদিন একটা মেয়েকে রাস্তা থেকে তুলে নেই।আমার গার্লফ্রেন্ড নেই।অত ঝামেলা করবে কে? একটা মেয়ের পিছনে দৌড়ানো,তার কেয়ার করা,তাকে গিফট দেওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি।
তারপর তাকে রুমে নিতে আবার হাজার ঝঞ্ঝাট।এর থেকে সহজ উপায় আমি পেয়েছি।
হ্যাাঁ।
খুব সহজ।
পানির মত সহজ।
এই রাস্তাটায় আমি আগে কোন দিন আসি নি।আজকে ঠিক করেছি এই রাস্তা থেকেই কোন মেয়েকে তুলে নিবো।
তারপর?

তারপর আর কি।আমার বাংলো তে নিয়ে যাব।তারপর অই মেয়েটিকে নিয়ে সারা রাত ভোগ করবো।তারপর ভোরবেলা,তাকে অকথ্য নির্যাতন করবো।

তারপর?

হা হা হা!
তারপর যা হওয়ার তাই।
হ্যা।
গল্পের শেষ টান টা আমি ই দেই।
অইযে,একটা মেয়ে আসছে।
বয়েস বেশি না।তাও আপাতত আজকের জন্য চালানো যাবে।
এখন এই মেয়েকে নিয়ে যাব।তারপর বাংলো তে নিয়ে পার্টি করব।তারপর ও কে হত্যা করে আমার বাগানে পুতে দিয়ে ভোরবেলা ঘুমাব।আমার আবার বাগান করার শখ কিনা।
মেয়েটা আসছে।আমি গাড়ি থেকে নামলাম।হেটে ওর দিকেই যাচ্ছি।মেয়েটি হাটার গতি বাড়িয়ে দিলো।আমিও জোরে দৌড়ানো শুরু করলাম।
তারপর মেয়েটিকে ধরে ফেললাম।

আচমকাই ঘুম ভেঙে গেলো।আজকাল ঘুম হয়না তেমন।কেমন যেন এক রোগ আমায় পেয়ে বসেছে।কি সব স্বপ্ন দেখি আমি।
বাংলোর বাগানে এসে বসলাম।মাটির উপর টেবিল আর চেয়ার পাতা।সেখানে বসে একটা সিগারেট ধরালাম।
হঠাৎ টেবিলের কোনায় নজর পড়লো,দেখলাম একটা আঙুল বের হয়ে আছে।নখে নেইলপলিশ।রক্তাক্ত।
এক বিরক্তি আমার উপর ভর করলো।ধুচ্ছাই।
কবে যে লাশ গুলো মাটিতে মিশে মাটিকে আরো পুষ্টিকর করবে কে জানে।আমি এখানে গোলাপ বাগান করবো।
সিগারেট এর শেষাংশ সেই আঙুল এর পাশে ফেললাম।তারপর পা দিয়ে দুটোকে মাটির গভীরে পুঁতে দিলাম।
একটা সিগারেটের ফিল্টার পরিবেশের তেমন ক্ষতি করবেনা।তাইনা?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *