নুব ওয়ার্ল্ড

ডেডলক বসে ছিলো তার ল্যাপটপ এর সামনে।নিচে সময় দেখলো,৩ঃ৪৭,২২/১/২০২৬
এত রাতেও সে বসে আছে।এক দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে তার কালি লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম এর দিক এ।
হাজার হাজার অপরেটিং সিস্টেম।এর মধ্যে এই তার কেন যেন এই ব্যাকডেটেড অপারেটিং সিস্টেম টাই পছন্দ করে।
অনেক ঝামেলা এই কালি তে।সব কমান্ড দেওয়া লাগে।নাইলে কাজ করেনা।কিন্ত আর সব অপারেটিং সিস্টেম এ এত ঝামেলা নাই।সব দেওয়া।শুধু বট কে বলতে হবে কি করতে হবে।বট দ্বারাই এখন সব কাজ হয়।মানুষের আর কি বোর্ড বা মাউস দিয়ে গুঁতাগুঁতি করতে হয়না।বট কে বলতে হয়।তাহলেই হয়।
কিন্ত হ্যাকার আর প্রোগ্রামার রা এখনো সেই কিবোর্ড এই বিশ্বাসী।
ডেডলক ভাবছে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে।সে একটা প্রোগ্রাম বানিয়েছে।
যাdদেশ ধংস করে দিতে পারে সেকেন্ড এ।স্তব্ধ হয়ে যাবে যাবতীয় কম্পিউটার পরিচালিত ব্যবস্থা।
ডেডলক এর নাম দিয়েছে “দ্যা মার্শাল”
কিন্ত সে ভাবছে অন্য কথা।তার এই প্রোগ্রাম এর কথা কাসেম টিভি তে ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে।
তার পর কয়েকবার তার কম্পিউটার হ্যাক করার চেষ্টা হয়েছে।ব্যর্থ সেই সব চেষ্টা।
ডেডলক ভাবছে কারা তার প্রোগ্রাম চুরি করতে চায়?
কেন???
কি করতে চাচ্ছে তারা??
.
দুপুরবেলা।ডেডলক তার ল্যাপটপ এ এক্সেস করে দেখে তার ল্যাপটপ এর সব ফাইল গায়েব।কেউ বা কারা তার ল্যাপটপ এর সিস্টেম ক্রাশ করে তার সব ফাইল রিকোভার করে নিয়েছে।
শুধু একটা ফাইল অবশিষ্ট।একটি নোট।
তাতে লেখা,”you have been hacked.পারলে আটকা আমাদের
we ar legion. we are the players.all the best.”
ডেডলক এর রক্ত শীতল হয়ে গেল।
তবে কি সে যা ভেবেছিল তাই হতে যাচ্ছে??
কি করবে সে এখন?
.
ডেডলক গত ২ দিন ধরে তার কম্পিউটার এর ডাটা ফরেনসিক করছে।কোন ফিংগারপ্রিন্ট পাওয়া যায় কি না সেই আশায়।কিন্ত কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।সে টিভি অন করলো।
“ব্রেকিং নিউজ!!!!
ডেডলক নামের একজন প্রোগ্রামার দ্যা মার্শাল নাম এর একটি প্রোগ্রাম বানিয়েছিলো।সে প্রোগ্রাম দ্বারা পার্শ্ববর্তী দেশ চীন এর ২ টি স্যাটেলাইট নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে চীন সরকার এবং বাংলাদেশি সরকার মিলে ২৫ সদস্যের একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে ডেডলক কে এরেস্ট করা এবং এই প্রোগ্রাম ধংস করার লক্ষে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সে এখনো নিখোঁজ।উবুন্টু কতৃপক্ষের কাছে ডেডলক এর আইপি ট্রেস করার দায়িত্ব অর্পন করা হয়েছে”
সর্বনাশ।প্রোগ্রাম রান করা শুরু হয়ে গেছে।কিন্ত,আমার প্রোগ্রাম রান করার সিস্টেম কিভাবে জানলো সে??
আমি ত এই প্ল্যান কোথাও লিখি নি।প্রফেসর রাতুল এবং প্রফেসর চয়ন এর থেকে আমি কিছু প্রোগ্রামের হেল্প নিয়েছিলাম।
কিন্ত তারা ত সম্পুর্ন প্ল্যান জানেনা।
তাহলে কে করলো???
কিভাবে??
.
ডেডলক এর বাসার চারিদিক এ রোবট সোয়াট ঘিরে রেখেছে।দরজা ভেঙে কিছু রোবট বাসায় ঢুকে গেল।ডেডলক এর মাথায় ব্লাস্টার মাস্টার ঠেকিয়ে ডেডলক কে বের করে আনা হলো।
ডেডলক এখন গাড়িতে করে যাচ্ছে।
কোথায় যাচ্ছে???
সে জানেনা।

ডেডলক একটি ধবধবে সাদা কাচে ঘেরাও করা রুম এ রয়েছে।কাচ গুলোর ভিতর দিয়ে হাজার বোল্টের কারেন্ট চলাচল করছে।
যদি অপরিচিত অথবা বন্দি কাচের গায়ে হাত রাখে তাহলে মুহুর্তে সে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে মারা যাবে।
বাইরে বুট এর আওয়াজ হচ্ছে।
কেউ হেটে আসছে।মানুষ।কারন রোবট হাটলে কোন শব্দ হয় না।
কে আসছে???
সে কি করবে ডেডলক এর সাথে??
ডেডলক এর কথা কি বিশ্বাস করবে তারা????
. সেল এর দরজা নিঃশব্দে খুলে গেল।
ভিতরে প্রবেশ করলো চিকন একটি মানব অবয়ব।
মানব না,মানবি।
লম্বা,শ্যাম বর্নের,টি শার্ট এর মত দেখতে একটি ইউনিফর্ম পড়া।কার্বনফাইবার হয়তো।
কোমর এ ইলেক্ট্রিক গান।আর ব্যাজ।উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার।CCIFD এর।যার মানে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এন্ড ফরেনসিক ডিপার্টমেন্ট।
এসে বললো,”আমি নালিয়া।CCIFD এর পাব্লিক ইনভেস্টিগেশন কো অর্ডিনেটর।আপনি নিশ্চই ডেডলক??”
আমি বললাম,”আনফরচুনেটলি আমি ই ডেডলক।”
নালিয়াঃ আমরা আপনাকে এখানে কেন এনেছি জানেন??
ডেডলকঃ হ্যা।আমার প্রোগ্রাম এর জন্য যা আমি বানিয়েছিলাম।কিন্ত বিশ্বাস করুন,আমি তা ব্যবহার করিনি।
নালিয়াঃ আমরা জানি।আমরা আপনাকে এনেছি আপনার প্রোগ্রাম কে বন্ধ করতে।এর ধংসযোগ্য হতে বিশ্বকে মুক্তি দিতে।আপনি কি আমাদের সাহায্য করতে ইচ্ছুক??
ডেডলকঃ দেখুন,আমি এই প্রোগ্রাম বানিয়েছি।কিন্ত কখনই তা ব্যবহার করে কারো ক্ষতি করতে চাই নি।আমি চাই এগুলো বন্ধ হোক।
নালিয়াঃ ত চলুন আমরা কাজ শুরু করি।আপনার প্রোগ্রাম এর ব্যাপারে বিস্তারিত বলুন।
ডেডলকঃ এইটা মুলত বহু আগের একটা ভাইরাস ট্রোজান আর RANSOMWARE এর মিশ্রন।এতে প্রথমে কোন কম্পিউটার এ ইঞ্জেক্ট করে সব তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়।তার পর তার সিস্টেম কোন একটি মাইক্রো কম্পিউটার দ্বারা পরিচালন করা হয়।এবং তা উদ্ধারের একটি মাত্র উপায় তা হচ্ছে ইঞ্জেক্টর এর কথা মত কাজ করা।তা ছাড়া কোন উপায় নেই।
আমার এই প্রোগ্রাম প্রথমে নেটওয়ার্কস,তার পর যাবতীয় যোগাযোগ মাধ্যম,তার পর রোবট এবং।কম্পিউটার,এবং শেষে ডাটাবেজ এ আক্রমন করা হয়।এই প্রোগ্রামের মুল লক্ষ দেশ অচল করে দেওয়া এবং বর্তমান বিশ্বের সম্পদ ডাটা হাতিয়ে নেওয়া।
নালিয়াঃ ত এ প্রোগ্রাম বন্ধের কোন উপায় নেই?
ডেডলকঃ না।তবে আমার প্রোগ্রাম প্রথম দিকের প্রটোকল এবং গেটওয়ে ছাড়া প্রবেশ করতে পারেনা।তা অন্য কোন প্রটোকল বা গেটওয়ে ব্যবহার করতে হলে আবার নতুন করে প্রোগ্রাম করতে হবে এবং রিবুট করতে হবে।আর আমার প্রোগ্রাম রিস্টার্ট এর সময় নতুন কিছু আইপি ব্যবহার করতে চায়।আর তখন সে আইপির বাউন্স স্পিড অনেক বেশি থাকে।
আমরা যদি তা ট্রেস করতে পারি তাহলে ক্রিমিনাল কে ধরা সম্ভব।
নালিয়াঃ তাহলে চলুন কাজ শুরু করা যাক।
ডেডলক ঃচলুন।আমার জন্য ২ টি কালি ও ৩ টি প্যারোট পিসির ব্যবস্থা করুন।
নালিয়াঃ আপনার যা লাগবে তাই দেওয়া হবে।
দুজনে করিডোর ধরে হাটা শুরু করলো।
. .
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুগলি,গুগল ডুও,ইন্সট্রাগ্রাম,ফেসবুক এর সার্ভার ডাউন।এগুলোর হেড কোয়ার্টার ছিল ঢাকার যাত্রাবাড়ী হাই টেক সিকিউরিটি এরিয়া তে।
কোন ভাবেই তা উদ্ধার করা যাচ্ছেনা।
বিশ্বের যাবতীয় ডাটাবেজ,রোবট সেন্ট্রাল হাব,সুপার কম্পিউটার্স সহ প্রায় সব ই ঢাকা তে অবস্থিত।সারা বিশ্বে এখন একটাই সরকার ব্যবস্থা।
জাতীয়তাবাদি গণতন্ত্র।
আগের মত আলাদা আলাদা দেশ নেই।
ডেডলক এবং নালিয়া হাইপারটেক সুপারবাইক এ করে সেন্ট্রাল রোবোটিক্স হাব এ যাচ্ছে।কিছু প্রোগ্রাম করতে হবে।ফার্স্ট পার্টি গেটওয়ে অফ করতে হবে।
ফ্যাসিলিটি তে ঢুকে রোভার বাইক এ চাপলো ডেডলক এবং নালিয়া।ডেডলক মেয়েটার সাথে হাটছে।কেন যেন মেয়েটার প্রতি আলাদা একটি অনুভূতি কাজ করে।
মেয়েটার সঙ্গ ভালই লাগে তার।
ঝামেলা টা শেষ হোক।তার পর প্রপোজ করে দেখা যাবে।
ভাবতে ভাবতে রোবোটিক্স এর সেন্ট্রাল সুপারকম্পিউটার এর সামনে এসে পড়লো তারা।ডেডলক কাজ শুরু করে দিল।
৪ মিনিট ৪সেকেন্ড ১৩ ন্যানোসেকেন্ড এ কাজ শেষ।
এবার অপেক্ষার পালা।
ডেডলক এবং নালিয়া CCIFD এর ফ্যাসিলিটি তে এসে পড়লো।
ডেডলক তার প্যারট কম্পিউটার এবং কালি দিয়ে অপেক্ষা করছে দ্যা মার্শাল এর সার্ভার এর সাথে কানেক্ট হউয়ার।
প্রায় ৪ ঘন্টা ৪৯ মিনিট ৭০ ন্যানোসেকেন্ড পর কালি সিগন্যাল ট্রেস করতে শুরু করে।
প্রথমে গিপিএস দিয়ে ল্যাটিটিউড,লংটিউড এবং শেষ এ অই কম্পিউটার এর ডিটেইলস এবং তার ওয়েবক্যাম দিয়ে ক্রিমিনাল এর অবয়ব দেখতে পাওয়া যায়।
প্রায় ১৩ মিনিট পর ট্রেসিং রেজাল্ট শো করলো।
যা দেখা গেল তার জন্য ডেডলক মোটেও প্রস্তুত ছিল না।
সে?????
কিভাবে!!!!!!!
কেন????!!!!!
. .
নালিয়া,ডেডলক এবং কিছু রোবট একটি ভবন ঘীরে ধরেছে।
ভবন টা পুরাতন।অনেক।৭০-৮০ বয়েস হবে।বাড়িওয়ালার বাবা বানিয়েছিল ছেলের জন্মের আগে।
এখন সে বাড়িতে একজন ই থাকে।
ডেডলক এবং নালিয়া ঢুকে পড়লো বাড়ি তে।
বেজমেন্ট এ একটি রুম আছে।
সে রুম এ ডেডলক এর ছাত্রজীবন কেটেছে।
ঢুকে হতভম্ব হয়ে গেল ডেডলক।
প্রফেসর চয়ন পরে আছে একটি কোনে।মৃত।
আরেক কোনে ৪ টি কম্পিউটার।
তার সামনে প্রফেসর রাতুল বসে।
হঠাৎ শব্দ শুনে ঘুরে দাঁড়ায় সে।
ডেডলক কে দেখে দম বন্ধ হয়ে যায় তার।
তার পাপাচার শেষ।
ডেডলক জিজ্ঞেস করলো,আমি ত ভেবেছিলাম চয়ন স্যার করেছে এইসব।
কিন্ত আপনি কিভাবে স্যার?? কেন??
প্রফেসর রাতুল হেসে বললো,ডেডলক। আমার বয়েস হয়েছে।আমি ও চেয়েছিলাম একটি সুন্দর বিদায়।ভাল পেনসন।কিন্ত তা আমাকে দেওয়া হয় নি।কেন??
এতদিন বিশ্বের জন্য এত করার ফল কি এই ছিল?? আর আমি অনেক কিছুই করতাম।কিন্ত নাম হতো চয়ন এর।আমার বিন্দুমাত্র কার্টেসি দেওয়া হতো না।
কেনো?? এগুলো কি উচিত ছিল?? তোমার প্রোগ্রাম এর আইডিয়া আমার ভাল লেগেছিল।আমি তখনি এই প্ল্যান বানাই।
তোমার বাসায় আমার যাওয়া আসা ছিল।সেই সুযোগে তোমার বাসায় আমি কয়েকটি স্পাই বাগ ফিট করি।
তার পর তোমার প্ল্যান আর প্রোগ্রাম চুরি করি।
চয়ন কে আমি অইদিন ই হত্যা করি।চয়ন এত কিছুর কার্টেসি পেল।এই কাজের কার্টেসি ও তাকেই দিতে চাচ্ছিলাম।
কিন্ত তার উপর সম্পুর্ন দোষ চাপানোর আগেই আমায় ধরে ফেললে তোমরা।
আমার কোন আফসোস নেই।
এটলিস্ট কোন কিছুর কার্টেসি র পেলাম।
.
ডেডলক আর নালিয়া রাস্তায় হাটছে।
প্রফেসর রাতুল কে ২০ বছরের ডাটা এন্ট্রির শাস্তি দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ হাই কোর্ট।
ডেডলক এর প্রোগ্রাম এখন CCIFD এর সম্পত্তি।
হাটতে হাটতে নালিয়া বললো,বিয়ের পর যাবে কোথায়??
আমার চাদে একটি কুঁড়েঘর আছে।যাবে বললে ব্যবস্থা করি??
চমকে উঠলো ডেডলক।
জ্বী আচ্ছা বলে মাথা নিচের দিকে নাড়ালো ২ বার।
হিহিহি শব্দ করে একটি মেয়ে হেসে উঠলো।
.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *