হ্যাকিংঃ জন্ম থেকে বর্তমান

হ্যাকিং।কারো কাছে নেশা,কারো কাছে পেশা।কিন্ত আমরা এই হ্যাকিং সম্পর্কে কতটুকু জানি?আসুন আজ আমরা জেনে নেই হ্যাকিং এর জন্ম এবং বর্তমান অবস্থা।

হ্যাকিং কি?

হ্যাকিং হচ্ছে কোন কম্পিউটার অপরেটেড সিস্টেম এর বিনা অনুমতিতে ক্ষতি করা/তথ্য চুরি করা অথবা প্রবেশ করা।কোন ডিজিটালাইজড তথ্যভান্ডার অথবা কম্পিউটার অপরেটেড সিস্টেম কে অনুমতি ছাড়া নিজের স্বার্থে নষ্ট করে দেওয়া,তথ্য চুরি করা অথবা প্রবেশ করলে তা হ্যাকিং হিসেবে ধরা হয়।

সূত্রপাত

সূত্রপাত টি হয় ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অফ আইটি থেকে ১৯৩০ সালে।তখন কম্পিউটার খুব কম ই পাওয়া যেত।ত একদিন একদল ছাত্র মিলে দুষ্টুমির ছলে একটি প্রোগ্রামকে কিছু শর্টকাট দিয়ে ব্যবহার করেছিলো।তখন ই তাদেরকে হ্যাকার বলে সম্বোধন করা শুরু করা হয়।এরপর তারা তাদের কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা,শাহস এবং উদ্ভাবনীশক্তি দ্বারা এরকম আরো অনেক শর্টকাট আবিষ্কার

করেছে।ফলে তাদের সুনাম অনেক যায়গায় ছড়িয়ে যায়।

এভাবেই হ্যাকিং এর সূত্রপাত।এরপর থেকে হাজার হাজার ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করে হাজার হাজার হ্যাকার পৃথিবীকে কাপিয়ে দিয়েছে।নেক্সট ব্লগে আমরা তেমন কিছু ভয়াবহ হ্যাকিং ইতিহাস জানবো।

হ্যাকিং এর ইতিহাসঃ

১৯৭০ এর দিকে একজন ব্যক্তি নিজের পকেটের টাকা বাঁচানোর জন্য টেলিফোন সিস্টেম হ্যাক করে।জন থমাস ড্রেপার নামের সেই ব্যক্তি এই কাজের জন্য কয়েকবার জেলের হাওয়া খেয়েছিলেন।কিন্ত তাও সে থেমে থাকেনি।চালিয়ে গিয়েছে তার কাজ।

ক্যালিফর্নিয়ার একটি কম্পিউটার ক্লাবের ২ জন সদস্য ব্লু বক্স নামের একটি বক্স তৈরি করে।যা দিয়ে যে কোন টেলিফোন সিস্টেম হ্যাক করে কথা বলা যেত।এবং এদের দুইজনের নাম ছিল স্টিভ জবস এবং স্টিভ অজনিয়াক।যারা এপেল ইনকর্পোরেটেড প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৮২ সালে ৬ জন তরুন কিছু হাই প্রোফাইল সিস্টেম হ্যাক করে অনেক বড় ধরনের ক্ষতি করে ফেলে সেসব কোম্পানির।পরে ১৯৮৩ সালে তারা গ্রেফতার হয়।তারা সবাই এম আই টির শিক্ষার্থী ছিলছিল

১৯৮৩ সালে একটি মুভি রিলিজ হয় ওয়ারগেমস নামে।আর সেই মুভি দেখে অনেক মানুষ ই হ্যাকিং এ জড়িয়ে যায়।সে বছর প্রায় সাড়ে চারশত কিশোর এবং তরুন দের সারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে।তারা স্বীকার করে ওয়ারগেমস দেখেই তাদের হ্যাকিং এর প্রতি আকর্ষন।

১৯৮৩ সালে সর্বপ্রথম হ্যাকারদের ম্যাগাজিন “২৬০০” বের হয়।এতে হ্যাকিং এর খবরাখবর,টিপস,ট্রিক্স দেয়া থাকতো।আর সে বছর ই কেন থমসন নামের এক বিজ্ঞানি ট্রোজান হর্স ভাইরাসের ধারনা প্রদান করেন

১৯৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র সর্বপ্রথম সাইবার কন্ট্রোলিং মিয়ে আইন করে।কিন্ত হ্যাকার রা তাতেও থেমে থাকেনি।

মরিসওয়ার্ম নামের একটি ম্যালওয়ার অর্পানেট নামের একটি সার্ভারে কানেক্ট থাকা ৬ হাজার কম্পিউটার কে অকেজো করে দেয়।পরে এই ম্যালওয়ার এর সৃষ্টিকারী রবার্ট মরিসকে ১০০০০ ডলার জরিমানা করা হয়।

এরপর থেকে সারা বিশ্বে হ্যাকার দের দ্বারা মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে যায়।

এছাড়াও সারা বিশ্বে হাজার হাজার হ্যাকার এবং হ্যাকিং এর দিকে ঝুকতে থাকে এবং কাজ করে।

হ্যাকিং একটি নেশা এবং সুযোগ্য পেশাও বটে।তাই দিন দিন এর জনপ্রীয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

হ্যাকিং করে সবাই হাজার হাজার ডলার আয় করছে।তাই এটি যেমন মজার তেমনি এটি স্যাটিসফাইড ও করে।

আপনি একজন হ্যাকার হতে চাইলে আপনি ই পারবেন।শুধু লাগবে একটু শেখার মন মানসিকতাএবং কাজের প্রতি ভালবাসা।এই দুটো জিনিষ হলে এবং শেখার জন্য ভাল ডেডিকেশন থাকলেই একজন হ্যাকার হতে পারবেন আপনি

পরবর্তী ব্লগে কিছু ভয়ংকর হ্যাকার এবং তাদের কাজ নিয়ে লেখবো।ততক্ষন সাথেই থাকুন।

সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ❤

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *