ল্যাম্বরগিনিঃ বিশ্বের সবচাইতে আকর্ষণীয় স্পোর্টস কারের জন্মকথা

ল্যাম্বরগিনির সম্পর্কে তো আমরা সবাই জানি। কে না চিনে এই মহাদানব কে? প্রায় সব মানুষেরই ড্রিম কার ‘ল্যাম্বরগিনি’। কিন্ত এই ল্যাম্বরগিনির জন্ম কিভাবে? আমরা কয়জনই বা জানি এই সম্পর্কে? আসুন জেনে নেই ল্যাম্বরগিনির জন্মকথা ও ইতিবৃত্ত।


ল্যাম্বরগিনি এবং একটি আঙুরচাষির ছেলের উচ্চতার শেখরে ওঠার গল্প

ফেরুচো লেম্বরগিনি হচ্ছেন ল্যাম্বরগিনির প্রতিষ্ঠাতা।কিন্ত সে আর দশটা মানুষ এর মত সাধারন ছিলেন না কোন দিন ই।সে একটি গ্রামে দরিদ্র এক আঙুরচাষীর ঘরে জন্মলাভ করে।কিন্ত কোন দিন ও তাকে চাষাবাদ করতে হয়নি।তাকে টানতো মেকানিজম।

তাই সে অনেক কষ্ট করে তারপর সে ভর্তি হলো টেকনিকাল ইন্সটিউট এ।সেখান থেকে সম্মানের সাথে পাশ করে বের হয়েই তার চাকুরী হয়ে গেলো ইতালিয়ান রয়েল ফোর্সে।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রণসঙ্গীত বাজছে তখন সবখানে।ফেরুচো ল্যাম্বরগিনির কাজ পড়লো একটি নির্জন দ্বীপে ইতালিয়ান রয়েল ফোর্সের একটি ঘাটিতে।

সেখানে সে মেকানিকস হিসেবে ছিল।তার মন মত কাজ।সে নির্জনে নিজের মত করে মহানন্দে কাজ করতে লাগলো।

ফেরুচ্চো তার কাজে এতটাই দক্ষ হয়ে উঠেছিলেন যে অইখানের সব থেকে ভাল মেকানিক হয়ে গেলেন তিনি কিছুদিনের মধ্যেই।

তারপর সে গাড়ির পার্টস নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করলেন।গাড়ির সব বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠলেন।তারপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়।তিনি কাজের অভাবে চলে আসেন নিজের গ্রামে।

নিজের গ্রামে এসে ফেরুচ্চো একটি গাড়ি ঠিক করার গ্যারেজ দিলেন।ত মোটামুটি চলছিলো তার ব্যবসা।কিন্ত তার গ্রামের কৃষকদের জমি চাষ করার পদ্ধতি তাকে খুব ই পীড়া দিতো।

সে তার গ্রামের লোকদের জন্য সহজ কিছু তৈরি কর‍তে চাইলো।ব্যস।যেই ভাবা সেই কাজ।যুদ্ধে ব্যবহৃত পুরাতন গাড়ি ও তার যন্ত্রাংশ কিনে নেন তিনি।তারপর শুরু করেন গবেষনা।কয়েক মাসের পর সে আবিষ্কার করে ফেলেন ট্রাক্টর।যা কিনা কৃষি ক্ষেত্রের আমূল ই পাল্টে দেয়।

ট্রাক্টর আবিষ্কারের পর সেই ট্রাক্টর বিক্রয় করে রাতারাতি ভালই সম্পদশালী হয়ে উঠেন ফেরুচ্চো।তার গাড়ীর প্রতি ঝোক ছিল।

তৎকালীন সময়ে তার কাছে জাগুয়ার,মার্সেডিজ এর মত যত ধরনের বিলাশবহুল গাড়ি ছিল তার সব কয়টি ই ছিল।শুধু ফেরারী বাদে।

সে প্রতি সপ্তায় এক একটি গাড়ি চালালেন।তখন ফেরারীর গাড়ি নিয়ে তুমুল হইচই শুরু হয়।মারাত্বক সব ডিজাইন আর গতি নিয়ে ফেরারী গাড়ির বাজারে খুব ভালভাবেই জঁাকিয়ে বসেছিলো।তা দেখে ফেরুচ্চো ও কিনে নিলেন একটি ফেরারী।

কিন্ত সে গাড়ি নিয়ে সে সন্তুষ্ট ছিলেন না।একজন গাড়ি বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার নজরে গাড়ির অনেক ত্রুটি ধরা পরে।

তাই সে কয়েকদিন পর পর ই ফেরারীর সার্ভিস সেন্টারে যেত এবং এটা ওটা পালটে দিতে বলতো।

ত এইসব ব্যাপারে বিরক্ত হয়ে সে একদম ফেরারীর মালিক এনজো ফেরারীর দোরগোড়ায় এসে হাজির হলেন।

তাকে নিজের পরিচয় দিলেন এবং বললেন,”আপনার তৈরিকৃত গাড়িগুলো খুব ই ভাল এবং সুন্দর।কিন্ত কিছু কিছু বিষয়ে আপনি কিছু সামান্য পরিবর্তন করলেই আপনার গাড়ি আরো ভালভাবে তার কাস্টোমারদের আকৃষ্ট করতে পারবে।”

এনজো খুব ই অহংকারী ছিলেন।তিনি বললেন,”আপনি একজন ট্রাক্টর চালক কৃষক।আপনি কি বুঝবেন স্পোর্টস কারের মর্ম?যান।নিজের বাড়িতে যান এবং কিছু চাষবাস করুন।”

ফেরুচ্চো কোন উচ্চবাচ্য করলেন না এনজোর সাথে।মাথা নিচু করে বের হয়ে এলেন।এবং নতুন ভাবে স্পোর্টস কার বানানো শুরু করলেন।

সে মাত্র ৪ মাসের মধ্যেই স্পোর্টস কার তৈরি করে ফেললেন।যদিও তার সেই প্রথম গাড়ি তৈরির সময় সে এক অভিনব চালাকির আশ্রয় নিয়েছিলেন।

একটি অটো শো তে তিনি তার গাড়িটি প্রদর্শন করান।কিন্ত তখন ও ইঞ্জিন বসানো হয়নি।তাই ইঞ্জিনের যায়গায় ইট ভরে দেন তিনি।ফলে কেউ বুঝতে পারেনা আসল গল্প।

তারপর কিছুদিনের মাথায় তিনি তার তৈরিকৃত প্রথম স্পোর্টস কার ল্যাম্বরগিনি ৩৫০ জিটিবি।

এবং শুধু মার্কেটে রাজত্ব করার জন্য সে তার গাড়িকে ফেরারির থেকেও কম দামে বাজারে ছাড়েন শুধুমাত্র ফেরারীকে হটানোর জন্য।এবং কিছুদিনেই তিনি তা করতে সফল হন।

এবং অনেক দ্রুতই ল্যাম্বরগিনি ফেরারী কে হটিয়ে মুকুট পেয়ে যায়।

এবং ২০ বছরের মাথায় ল্যাম্বরগিনি হয়ে যায় বিশ্বের সব চাইতে দামী,বিলাশবহুল এবং দ্রুতগতির স্পোর্টস কার।

আজ অব্দি ল্যাম্বরগিনির মত জনপ্রিয়তা কোন গাড়ি পায় নি।প্রায় সব ধরনের গাড়িপ্রেমির পছন্দের তালিকায় ল্যাম্বরগিনি একটি উজ্জ্বল নাম।

আর ফেরুচ্চো ল্যাম্বরগিনির গল্প আমাদের শেখায় যে,কোন মানুষ ই ছোট নয়।আপনি যদি চায় সে কিছু করবেন।তাহলে আপনাকে আটকানোর জন্য পৃথিবীতে একজন ই সমর্থবান আছে।আর তা আপনি নিজেই।

ধন্যবাদ পাশে থাকার জন্য। নেক্সট ব্লগের জন্য সাথেই থাকুন।

ধন্যবাদ 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *