ক্রেয়ন শিন চ্যানঃ Behind the story

আমরা সবাই ই শিন চ্যান কার্টুনের সাথে পরিচিত।বলা যায় বর্তমানে শিন চ্যান বিশ্বের অনেক শিশু এবং প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের কাছেই প্রিয়।শিন চ্যান এর অদ্ভুত সব কাজ,অদ্ভুত সব শব্দ,অদ্ভুতুড়ে প্রশ্ন এবং তার জবাবে আমরা সবাই হেসে কুল পাই না।

কিন্ত এই হাসির একটি কার্টুনের পিছনেও রয়েছে এক হৃদয়বিদারক গল্প।যা যে কোন মানুষের হৃদয় কে শোকাবহ করে তুলতে পারে।চলুন আজকে আমরা জেনে নেই শিন চ্যান এর সত্যিকার গল্প।

শিন চ্যান কে?

শিন চ্যান এর বাস্তবিক নাম শিনোসুকে নোহারা।সে তার বাবা,ম,তার ছোট বোন আর তার প্রিয় কুকুরের সাথে জাপানের একটি শহরে বাস করতো।

শিনোসুকে তার বাড়ির কাছেই একটি কিন্ডারগার্ডেন স্কুলে পড়ালেখা করতো।সেখানে তার অনেক বন্ধু এবং শিক্ষক ছিল যারা শিনোসুকে এর জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে থাকতো।

শিনোসুকে খুব ছোট,কিন্ত দুষ্টু ছিল।তার দুষ্টুমির ছিলনা কোন অন্ত এবং কেউ তাকে থামাতে পারতো না।তাই সবাই শিনোসুকে কে এরিয়ে চলতো।

শিন চ্যান কার্টুনে যেমন আমরা দেখেছি যে শিন চ্যান কে বাড়িতে রেখে গেলেই শিন চ্যান বাড়িতে তাণ্ডবলীলা চালিয়ে দিতো,তেমনি শিনোসুকেও দুষ্টু ছিলো।

সপ্তাহের ছুটিতে শিনোসুকে,তার বাবা,তার মা মিসাই,তার বোন হিমাওয়ারি ঘুড়তে গিয়েছিলো।

বাড়িতে ফিরে আসার সময় নোহারা পরিবার বাজারে যায় সাপ্তাহিক বাজার করতে।সবাই যখন বাজার নিয়ে ব্যস্ত ছিল তার ফাঁকে হিমাওয়ারি সবার কাছ থেকে আলাদা হয়ে রাস্তায় চলে যায়।

শিনোসুকে তা দেখতে পায় এবং হিমাওয়ারি কে বাঁচাতে ছুটে যায়।

কিন্ত বিধিবাম!একটি গাড়ি তখন ই জোরে এসে হিমাওয়ারি এবং শিনোসুকে কে চাপা দেয়।শিনোসুকে এবং হিমাওয়ারি তখন ই মারা যায়।

এই দৃশ্য চোখের সামনে দেখে মিসাই অর্থাৎ শিনোসুকের মা শোক সংবরণ করতে পারেনি।সে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে।এভাবেই কার্টুনে থাকা শিন চ্যান এর বাস্তবিক রূপ শিনোসুকের মৃত্যু ঘটে।

ক্রেয়ন শিন চ্যান কার্টুনের জন্মঃ

শিনোসুকের মা মিসাই শিনোসুকে এবং হিমাওয়ারির মৃত্যুর পর মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যায়।সে সারাদিন বসে বসে মোমরং দিয়ে শিনোসুকে এবং হিমাওয়ারির যত কাণ্ডকারখানা তার মনে পড়তো সব ছবি তে আকঁতো এবং গল্প লিখতো।

ইয়োশিতা উসুই নামের একজন শখের আর্টিস্ট এই গল্প জানতে পারে।সে মিসাই এর সাথে দেখা করে এবং শিনোসুকের জীবন নিয়ে একটি কার্টুন ম্যাগাজিন সিরিজ করতে চায়।

মিসাই রাজী হয়।তারপর উসুই লেখা শুরু করে।উসুই কার্টুন ম্যাগাজিন সিরিজের নাম রাখে মোম রঙের শিন চ্যান বা ক্রেয়ন শিন চ্যান নামে।সেই লেখা পরে তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।প্রায় সবাই সেই ক্রেয়ন শিন চ্যান এর নতুন পর্বের জন্য মুখিয়ে থাকতো।

পরে সেই কার্টুন ম্যাগাজিন সিরিজ বাস্তবিক কার্টুন বানিয়ে বাজারে ছাড়া হয়।আর তা বিশ্বে সব চাইতে বেশি বিক্রি হয়।ক্রেয়ন শিন চ্যান কার্টুনের প্রায় ১০০ মিলিয়নের ও বেশি কপি বাজারে বিক্রি হয়!

মজার ব্যাপার হচ্ছে,ইয়োশিতা উসুই ক্রেয়ন শিন চ্যান লেখার আগে একটি দোকানে কাজ করতো।আর সে দোকানের মালিকের নাম ছিল শিনোসুকে নিকাইদো।

শিনোসুকে নিকাইদো ১৯৮৭ সালে তার লেখা নিজস্ব কার্টুন সিরিজ শুরু করে।আর সেই কার্টুনের বিষয়বস্তু ছিল তার নিজের ই জীবনের প্রতিদিনের ঘটে যাওয়া হাসি মজার ঘটনা নিয়ে।এবং শিনোসুকে নোহারা কে নিয়েও তার কয়েকটি পর্ব আছে সেই কার্টুনে।যাতে শিনোসুকে কে একটি দুষ্টু ছেলে হিসেবে প্রকাশিত করা হয়েছে।

এসব দ্বারা বোঝা যায় শিনোসুকে অথবা শিন চ্যান এর ঘটনা বাস্তবিক ছিল।এবং আজ অব্দি কোন টিভি চ্যানেল ই এটি প্রকাশ করেনি এবং ক্রেয়ন শিন চ্যান কার্টুনের শেষ পর্ব প্রচার করেনি।

শিন চ্যান নোহারা আমাদের সবার প্রিয় চরিত্র।সে সবার আদুরে এবং সবাই তাকে ভালবাসে।কিন্ত প্রত্যেকটি সুখি গল্পের পিছনে একটি বিদঘুটে গল্প থাকে যা মেনে নেয়া কষ্টকর।

শিন চ্যান নোহারার দুষ্টুমি যে কোন সাধারন মানুষের মনে দাগ কাটতে বাধ্য।এবং বর্তমান জেনারেশন ছাড়াও প্রাপ্তবয়ষ্ক সবাই শিন চ্যানকে মনে রাখবে সব সময়।

ভাল থাকুক শিন চ্যান ওপারে।

সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *